
বিরিয়ানি (Chicken Biryani Recipe in Bengali) হল খাদ্য রসিক লোকেদের কাছে সবচেয়ে প্রিয় রেসিপি গুলির মধ্যে একটি রেসিপি I স্বাদে আর ঐতিহ্যে ভালোবাসার আর এক অনন্য সংমিশ্রণ হলো এই চিকেন বিরিয়ানি।
আমাদের এই দক্ষিণ এশিয়ায় খাবারের জগতে এই চিকেন বিরিয়ানি রেসিপি (Chicken Biryani Recipe in Bengali) শুধু একটি জনপ্রিয় খাবারই নয়, বরং এটি একটি আবেগ ও ঐতিহ্য এবং বহু মানুষের ভালোবাসার একটি খাবার। এই রেসিপিটি ভারত, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সহ প্রায় সবখানেই আলাদা আলাদা রূপে জনপ্রিয় হলেও এর মূল আত্মা কিন্তু একটাই, এর অতুলনীয় স্বাদ।
এই চিকেন বিরিয়ানি (Chicken Biryani Recipe in Bengali) নামটা শুনলেই যেন জিভে জল চলে আসে। এটি ভাত, মাংস আর মশলার এমন এক নিখুঁত সমন্বয় যেটা পৃথিবীর খুব কম খাবারেই দেখা যায়। তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক, স্টেপ বাই স্টেপ।
চিকেন বিরিয়ানি (Chicken Biryani Recipe in Bengali) রান্না প্রয়োজনীয় উপকরণ:-
ভালো মানের বাসমতি চাল ১kg
চিকেন ১.৫ kg
৫-৬টি বড় সাইজের আলু
৪০০ গ্রাম পেঁয়াজ
এক বাটি টক দই
১৫ গ্রাম আদা
তিনটি রসুন
২০০ এমএল দুধ
৫০ গ্রাম খোয়া
হাফ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো
পাঁচটি এলাচ
চারটি লবঙ্গ
একটি জয়ত্রী
এক চা চামচ গোটা ধনে
দুইটি কালো এলাচ
অর্ধেকটা জয়ফল
এক চা চামচ শা জিরে
এক চা চামচ শা মরিচ
দুইটি দারচিনি
দুই চা চামচ কেওড়া জল
এক চা চামচ গোলাপ জল
ঘি
সাদা তেল ২০০ গ্রাম
মিষ্টি আতর
হাফ চা চামচ কেশর
সিলভার ফয়েল পেপার
বাসমতি চাল সেদ্ধ করার জন্য উপকরণ :-
দুইটি তেজপাতা
চারটি এলাচ
চারটি লবঙ্গ
পাঁচ ছয়টি গোলমরিচ
দুইটি দারচিনি
স্বাদমতো লবণ
এই উপকরণ গুলির সঠিক ব্যবহারই চিকেন বিরিয়ানিকে সাধারণ ভাত-মাংস থেকে আলাদা করে তোলে।
রান্নার পদ্ধতি:-
আপনারা অনেকেই মনে করেন যে, এই চিকেন বিরিয়ানি (Chicken Biryani Recipe in Bengali) রান্না করা খুবই কঠিন। কিন্তু আসলেই সেটা নয়, শুধুমাত্র সঠিক ধাপগুলো অনুসরণ করলে খুব সহজেই এই সুস্বাদু চিকেন বিরিয়ানি রান্না করা সম্ভব।
প্রথমত:-
চিকেনগুলো আপনাকে খুব ভালো করে ধুয়ে ও জল ঝরিয়ে নিতে হবে, আর আলুগুলো অর্ধেক করে কেটে খুব সুন্দর করে ধুয়ে নিতে হবে। সাথে বাসমতি চালটাও ভিজিয়ে রাখতে হবে।
দ্বিতীয়ত:-
এরপর এলাচ, লবঙ্গ, দারচিনি, গোটাধনে, কালো এলাচ,এক টুকরো জয় ফল, শা জিরে, সবমিলিয়ে আপনাকে একটি শুকনো কড়াইয়ে খুব কম তাপে হালকা করে ভেজে নিতে হবে। ভেজে নেওয়ার পর সেগুলি ভালো ভাবে গুঁড়ো করে নিতে হবে।

তৃতীয়ত:-
পেঁয়াজ গুলি পাতলা করে কুচি কুচি করে কেটে নিয়ে আদা ও রসুন বেটে নিতে হবে।
চতুর্থত:-
করাইটি বসিয়ে নিয়ে ২০০ এম এল সাদা তেল ও এক চা চামচ ঘি দিয়ে গরম করে নিতে হবে। এরপর পেঁয়াজ কুচি দিয়ে ১০ থেকে ১২ মিনিট আপনাকে ভেজে নিতে হবে হাই ফ্লেমে I

পঞ্চমত:-
পেঁয়াজগুলি লাল হয়ে গেলে আপনাকে পরিমাণ মতো জল, লবণ, কাশ্মীরি লঙ্কার গুঁড়ো ও হলুদ দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে । আর মেশানো হয়ে গেলে ঠিক সেই সময় কেটে রাখা বিরিয়ানির আলুগুলো সেখানে দিয়ে দিতে হবে । তারপর ওই জলের মধ্যে দুই ফোঁটা মিষ্টি আতর দিয়ে মিশিয়ে নিয়ে আদা ও রসুন বাটা দিয়ে ঢাকা দিতে হবে । আতর দিলে আলুর গন্ধ অনেকটা বৃদ্ধি পায় ।
ষষ্ঠত:-
আলুগুলো ৮০% সেদ্ধ হওয়া পর্যন্ত ঢাকনা দিয়ে রাখতে হবে। এখানে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে আলু সিদ্ধ হওয়ার পরও যাতে কিছুটা পরিমাণে রস থাকে সেই হিসাবেই জলটা দিতে হবে । আলুগুলো ৮০% সিদ্ধ হয়ে গেলে তুলে নিতে হবে ।
সপ্তমত:-
এরপর অবশিষ্ট গ্রেভিটার মধ্যে চিকেন গুলো দিয়ে রান্না করে দিতে হবে। চিকেন গুলি দেওয়া হলে স্বাদমতো লবণ দিয়ে একটু ঘেটে দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। আর এখানে কোন জল ব্যবহার করা যাবে না, যেহেতু চিকেন থেকে জল বেরোবে । এবং ৭ থেকে ৮ মিনিট পরে ঢাকনাটা তুলে নিয়ে দেখতে পারবেন চিকেন গুলো থেকে তেল ছেড়ে দিবে ও ৭০% কুক হয়ে যাবে। আর তুলে রাখা আলু গুলো এই সময় দিতে হবে। তারপর ১৫০ গ্রাম টক দই উপর দিয়ে ছড়িয়ে দিয়ে তার ওপর গুঁড়ো করে রাখা মসলাটা দুই চা চামচ ছড়িয়ে দিতে হবে।
অষ্টমত:-
সাথেই অন্য একটি হাড়িতে জল বসিয়ে দিতে হবে। জল গরম হয়ে গেলে এর মধ্যে দুইটি দারচিনি, দুইটি তেজপাতা, চারটি এলাচ, কয়েকটা গোলমরিচ, ৪ টি লবঙ্গ ও স্বাদ মতো লবণ দিয়ে দিন।
নবমত :-
এরপর জলটা দু থেকে চার মিনিট ফুটিয়ে নিতে হবে। তারপর ভিজিয়ে রাখা সেই বাসমতি চাল ওই গরম জলে দিয়ে দিন। সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত ঢাকনাটা দিয়ে ঢেকে দিন। এরপর ৭০% সিদ্ধ হয়ে গেলে ভাত নামিয়ে জল ঝরিয়ে নিতে হবে।
দশমত :-
আর অন্যদিকে বাকি মসলাটাও রেডি করে নিতে হবে। ২০০ গ্রাম গরুর দুধ কিংবা মহিষের দুধ, ৫০ গ্রাম খোয়া ও হাফ চা চামচ এলাচ গুঁড়ো সবগুলো ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।
বিরিয়ানির উপর ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য কেশর জলটাও বানিয়ে নিতে হবে। এর জন্য ১.৫ কাপ মত জল, এক চা চামচ গোলাপ জল, দুই চা চামচ কেওড়া জল, দুই ফোঁটা মিষ্টি আতর, হাফ চা চামচ কেশর দিয়ে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।
একাদশত :-
প্রথম লেয়ার :
এরপর সেই চিকেন কষানো গ্রেভির মধ্যে বাসমতি চালের ভাত অর্ধেকটা খুব সুন্দর করে সাজিয়ে দিতে হবে। আর তার উপর দিয়ে দুধের ঘোল টাও ছিটিয়ে দিতে হবে সম্পূর্ণটাই।
দ্বিতীয় লেয়ার :
তারপর বাকি ভাতগুলো আবার বিছিয়ে দেওয়ার পর আগে থেকে বানিয়ে রাখা অবশিষ্ট গুঁড়ো মসলাটা দিয়ে কেশর ও কেওড়া জলটা সুন্দর করে উপর দিয়ে ছড়িয়ে দিতে হবে এবং শেষে ছড়িয়ে দেবেন চার চা চামচ ঘি।

দ্বাদশত :-
এবার সিলভার ফয়েল পেপার কিংবা ঢাকনা দিয়ে হাঁড়ি বন্ধ করে দিন এবং প্রথম ১০ মিনিট ফুলফ্লেমে ও পরের ১৫ মিনিট হালকা ফ্লেমে দিয়ে দমে বসাতে হবে। আর এই দমই হলো এই চিকেন বিরিয়ানির আসল ম্যাজিক। এই দমে বসানো বিরিয়ানির স্বাদ ও ঘ্রাণ যা আপনাকে মুগ্ধ করবে। এবং শেষে চুলা বন্ধ করে দিন।

বাস তৈরি হয়ে গেল আপনার সেই পছন্দের সুস্বাদু বিরিয়ানি। তারপর ১০ মিনিট পরে আপনি পরিবেশনের জন্য রেডি করে নিন।
Chicken biryani পরিবেশন tips :-
এই চিকেন বিরিয়ানির (Chicken Biryani Recipe in Bengali) পাশাপাশি সাধারণত কিছু সাইড ডিশ পরিবেশন করা হয়, যা এর স্বাদ আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। যেমন:
- সেদ্ধ ডিম
- সালাদ
- লেবু
- রাইতা
- ও বোরহানি
বিশেষ করে এই বোরহানি আর চিকেন বিরিয়ানির জুটি অনেকের কাছেই এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী।
স্বাস্থ্য ও পুষ্টিগুণ:-
যদিও এই চিকেন বিরিয়ানি (Chicken Biryani Recipe in Bengali) একটু ভারী খাবার সেটা আমরা সবাই জানি, তবে পরিমাণ মতো খেলে এটি শরীরের জন্য অতটা ক্ষতিকর নয়। যেমন চিকেন থেকে প্রোটিন, চাল থেকে কার্বোহাইড্রেট ও মশলা অনেকেরই হজমে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত তেল বা ঘি ব্যবহার না করাই ভালো।
চিকেন বিরিয়ানি ধরন :-
এই চিকেন বিরিয়ানিরও বিভিন্ন ধরন আছে, যেগুলো বিভিন্ন অঞ্চলভেদে আলাদা আলাদা জনপ্রিয়তা আছে। যেমন
কলকাতা স্টাইল চিকেন বিরিয়ানি:-
এই বিরিয়ানিতে (Chicken Biryani Recipe in Bengali) আলু একটু কমই ব্যবহার করা হয়। তবে মসলা তুলনামূলকভাবে কম হলেও এর সুগন্ধ কিন্তু অসাধারণ।
হায়দ্রাবাদি চিকেন বিরিয়ানি:-
হায়দ্রাবাদি চিকেন বিরিয়ানি (Chicken Biryani Recipe in Bengali) হল ভারতবর্ষের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয় বিরিয়ানি I যেখানে কাঁচা মশলায় ম্যারিনেট করা চিকেন ও দমে রান্না করা চাল এই দুই মিলিয়ে একটা অসাধারণ অভিজ্ঞতার পরিচয় করিয়ে দেয়।
ঢাকাই চিকেন বিরিয়ানি:-
এই ঢাকাই চিকেন বিরিয়ানি (Chicken Biryani Recipe in Bengali) সাধারণত একটু ঝাঁঝালো ও মসলাদার হয় এবং এখানে ঘি ও কেওড়া জলের ব্যাপারটা অনেকাংশই বেশি থাকে।